Wednesday , June 20 2018
Breaking News

আইপিএলে খেলে ব্যাথা পেয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন মোস্তাফিজ, কিন্তু যখন আর পারছিলেন না…

এ মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের আশা ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। মাশরাফিবিহীন টি-টোয়েন্টি বোলিংয়ের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। ভক্ত , সমর্থকদের ও অনুরাগীদের অনেক প্রিয়। টিম বাংলাদেশ তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ভাবা হচ্ছিলো আফগানদের বল্গাহীন ও আক্রমণাত্মক উইলোবাজি নিয়ন্ত্রণে মোস্তাফিজই হবেন সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো, আফগানিস্তানের সাথে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে কাটার মাস্টারের সার্ভিসটাই পাবে না বাংলাদেশ। তাকে ছাড়াই দেরাদুনে তিন ম্যাচ খেলতে হবে সাকিব বাহিনীকে। আজ সকালে জাতীয় দলের বহর দেরাদুন যাবার আগে কাল সন্ধ্যার পরে মোস্তাফিজ হঠাৎই টিম ম্যানেজমেন্টকে জানান, ‘আমি হাঁটতে পারছি না। আমার পায়ের অগ্রভাগে (টো‘তে) প্রচন্ড ব্যথা।’

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে এক্সরে করতে বলা হয়। এক্সরেতে সমস্যা ধরা পরে। ওদিকে এক্সরে রিপোর্ট পেতে পেতে বেজে যায় রাত ১১ টা। তাই জাতীয় দল পরিচালনা, পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধায়ক কমিটি ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান আকরাম খান, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনসহ সবাই বিস্ময়ে বিমূঢ়, ‘সে কি কথা! এই তো দুদিন আগে (২৬ মে ) শেরে বাংলায় প্র্যাকটিস ম্যাচ খেললো। ফিল্ডিং করলো। কই মোস্তাফিজ তো ফিজিও-ট্রেনার, হেড কোচ, বোলিং কোচ, ম্যানেজার কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টের কারো কাছে কোনোরকম অভিযোগ করেনি! দিব্যি সুস্থ মানুষ। হঠাৎ দেরাদুন যাবার আগের রাতে কেন ব্যথার কথা বলা?’

বিষয়টিতে কোনরকম পেশাদারিত্বের ছোঁয়া নেই। সবাই হতভম্ব! বলা নেই, কওয়া নেই। কোনো প্র্যাকটিস সেশন কিংবা ম্যাচ প্র্যাকটিস ছিল না। জিম কিংবা কোন ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করতে গিয়ে চোট লাগেনি। তাহলে হুট করে কাল রাতে কেন ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠা?

তবে কি মোস্তাফিজের পায়ের অগ্রভাগে ব্যথা আগেও ছিল। ফিজিও ও টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকরা তা জেনে বুঝেই তাকে দলে নিয়েছেন? নাকি ফিজিও তাকে মনিটর করেননি? আইপিএলে ব্যথা পেয়ে আসা দেশে ফেরার পর মোস্তাফিজকে খুঁটিয়ে দেখেননি বোর্ডের ফিজিও-চিকিৎসকরা?

বোলিং কোচ, হেড কোচ, ম্যানেজার আর প্রধান নির্বাচক; এতগুলো দায়িত্বপূর্ণ পদে বসা থাকা অভিজ্ঞজনরা কি করলেন? তারা কেউ খেয়াল করেননি মোস্তাফিজ আহত, তার পায়ে ব্যথা?

কাল গভীর রাতে এ খবর চাওর হবার পর থেকেই চারিদিকে গুঞ্জন। নানা প্রশ্ন। আবার বিপরীতমুখি কথা বার্তাও আছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আর ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন নিশ্চিত করেছেন, ফিজিও-ট্রেনার-বোলিং কোচ তথা টিম ম্যানেজমেন্টের কাজে কোনই গাফিলতি ছিল না। তারা কেউ জানতেনই না যে, মোস্তাফিজের পায়ের সামনের অংশে ব্যথা। সে দেরাদুন যেতেই পারবে না।

বরং আজ সকালে দিল্লিতে বিমানে ওঠার আগে সাথে আলাপে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ক্ষোভ ও হতাশার সুরে বলেন, ‘কি আর বলবো? ন্যাশনাল টিমের একজন অপরিহার্য প্লেয়ার। যার ওপর দল অনেকটাই নির্ভরশীল। কোথায় তার নিজের গরজ ও তাগিদ থাকবে, দল ও দেশকে সামর্থ্যের সবটুকু নিংড়ে দেবার, তার বদলে কতটা দায়িত্বহীন আচরণ দেখেন। কাউকে জানায়ইনি যে তার পায়ের অগ্রভাগে ব্যথা।’

সুজন আরও যোগ করেন, ‘আমার জানামতে সব ঠিকই ছিল। ২৬ মে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের দিবা রাত্রির প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে মোস্তাফিজ। কোনো সমস্যা দেখিনি। সে কাউকে মুখ ফুটে কিছু বলেওনি। পরের দিন সকালে দল ভারত যাবে। তার আগের দিন সন্ধ্যার পরে বলে আমার পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। আমি যেতে পারবো না। আমার পক্ষে খেলা সম্ভব না। এটা কিছু হলো? জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের এমন আচরণ, ভাবা যায়! এ যে রীতিমত দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা।’

Facebook Comments